মানুষের
একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো অধিকাংশ সময় মানুষ নিজেকে চিনতে পারেনা কিংবা চিনতে পারার সুযোগ
পায়না অথচ অন্যকে জানার চেষ্টা করে নিরন্তর। আবার জগতকে ধারণায়িত করতে থাকে একটি নির্দিষ্ট
মাপকাঠি দিয়ে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বকেন্দ্রীক। এই দিক দিয়ে ভাবতে থাকলে, সামাজিকীকরণ
মানুষের উপর একটা চাপানো প্রক্রিয়া; যা আদতে, মানুষকে “অন্য কেউ/কিছু” হতে শেখায় যা
সে আদৌ না। মানুষ জন্মের পর থেকে সমগ্র জীবনব্যাপী যতটা সামাজিক হতে থাকে ততটাই নিজের
স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিতে থাকে। একটা অবিচ্ছিন্ন, অভেদ্য এবং প্রবল শৃঙ্খলে মানুষ আটকা
পড়তে থাকে।
একইভাবে,
সামাজিক সম্পর্কগুলিও পুরোমাত্রায় প্রাকৃতিক নয় বরং অনেকটাই পাতানো। সামাজিক স্বার্থেই
পাতানো। আর পাতানো বলেই তা অসম কারণ সম্পর্কগুলির বিন্যাস একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থকে
সামনে রেখে হয়েছে। এরা সমাজে প্রভাবশালী। সাংস্কৃতিক ভিন্নতায় কিংবা সমাজ কাঠামোর বিবিধতায়
এই গোষ্ঠীর চেহারা আলাদা তবে অস্তিত্ব বর্তমান।
আরো
খোলাসা করে ভাবতে পারেন যেমন: “ছোটলোক” আর “ভদ্রলোক” এর ফারাক। এই যে ছোটলোক আর ভদ্রলোকের
ভিন্নতা, তা কিভাবে তৈরী হলো! প্রাকৃতিকভাবে তো নয়ই বরং উপার্জনও এর ভিত্তি নয়। সমাজের
প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে
“ভদ্র লোকের” ধারণাকে তৈরী করলো এবং মতাদর্শিক প্রচেষ্টায় তা গ্রহণযোগ্য করে তুললো।
আর এই বৈশিষ্ট্যের বাইরের গোষ্ঠীকে “ছোটলোক” এর কাতারে ফেলে দিলো।
এইভাবে, নানাবিধ সামাজিক
ধরনে মানুষ একে অপরের থেকে ভিন্ন। আদতে, তারা ভিন্ন ছিলো না বরং নিজেরা হয়েছে। নিত্য
হচ্ছে। আর যতটাই ভিন্ন হচ্ছে ততটাই চেষ্টা করছে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। বহুমাত্রিক
পন্থায় এই প্রচেষ্ঠা অব্যাহত যা একজন মানুষকে অপরের কাছ থেকে নিরন্তর দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
বাড়ছে বিভেদ, প্রতিযোগীতা, দ্বন্দ এমনকি সহিংসতা। অথচ আদি অ্যানসেস্টার অভিন্ন।
No comments:
Post a Comment